
শ্রদ্ধেয় আব্বা,
সালাম নিবেন। আশাকরি ভালো আছেন। মনের সাথে আর পেরে উঠলাম না। বুকের ভেতর অভিমানের তীব্র আগুন জ্বেলে নিজেকে পোড়াতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে। কিন্তু মাথার উপর আপনার ছায়ার সীমানা এত বড় – ক্ষোভের ঘোড়া ছুটে ছুটে ক্লান্ত হয়ে যায়, তবু তার বাইরে যেতে পারে না। তাই আপনার কাছেই ফেরা, আপনাকে আবার চিঠি লেখা। চিঠি না লিখে অন্য কোনও উপায়ও আমার ছিল না। আপনি আমার ফোন ধরেন না। একদিন বারবার ফোন দিয়েছি বলে বিরক্ত হয়ে আপনি আপনার নাম্বার বদলেছেন। অভিমানে সেই নাম্বার আমি জোগাড় করিনি। আপনার বাড়িতে উপস্থিত হওয়াকে আপনি আমার জন্য হারাম ঘোষণা করেছেন। আপনি বলেছেন, বাড়ি এলে আমি আমার মেয়ের মরা মুখ দেখব! তাই চিঠিই আমার শেষ ভরসা। আমার বিশ্বাস, যত রাগই আপনি আমার উপর করেন না কেন- আমার চিঠি আপনি ঠিকই পড়বেন। হয়তো চিঠি পড়ে আরও বেশি রাগ করবেন। হয়তো আমার উপর সকল রাগ দয়াহীনভাবে বইয়ে দেবেন আমার অসহায় মায়ের উপর।
আম্মার প্রসঙ্গ এসে গেল। আজ আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পন করতে এসেছি। তবু আম্মার কথা যেহেতু উঠলোই – তার হয়ে কিছু অনুযোগও করি। আব্বা, আপনার আর আম্মার সংসার জীবন কত বছর হলো? মিয়া ভাই’র বয়স যতদূর জানি একান্নতে পড়েছে। সেই হিসেবে আপনাদের দাম্পত্য জীবন বাহান্ন বছরের কম হবার কথা নয়। এই দীর্ঘ সময়ে আম্মা কি আপনাকে একটুও সুখী করতে পারেনি? জন্মের পর থেকে আপনার সংসারের জন্য, আপনার সম্পত্তির যত্ন আত্তিতে, আপনার সন্তানদের লালনে পালনে এই দুঃখী মানুষটিকে আমি যতটুকু নিজেকে নিবেদন আর সমর্পন করতে দেখেছি, আমার ধারণা, তাতে গোটা একটা পৃথিবীকেই সুখী করে ফেলা যায়। আমি কোনোদিন আপনাকে আম্মার সাথে হেসে কথা বলতে দেখিনি। যদিও এজীবনে কখনও আপনাকে হাসতে দেখেছি তেমনটাও আমার মনে পড়ে না। আপনি সব সময় আম্মার সাথে ধমকের সুরে কথা বলেন। এই বৃদ্ধ বয়সে এসেও, সারাটা জীবন আপনার জন্য ক্ষয় করেও কি সে আপনার একটু আপন হতে পারেনি? সারাক্ষণ ভয়ে তটস্থ আম্মাকে কখনো আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে দেখিনি। আমার ধারণা, আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন, আমার আম্মা তখন আকুল হয়ে আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। টলমল চোখ নিয়ে আপনার পাশে এসে বসে। অথবা বসে না। আঁচল দিয়ে আপনার কপালে জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে দেয়। অথবা দেয় না। কাঁপা কাঁপা হাতে আপনার লম্বা সাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে দিতে চায়। হয়তো চায়না। হয়তো আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও আম্মা আপনাকে খুব ভয় পায়! ঘুমিয়ে থাকা আপনি সে খবর কোনোদিন জানতেও পারবেন না। একটা অনুরোধ রাখবেন আব্বা, হঠাৎ একদিন আম্মার হাতটা আপনি ধরবেন? হাতটা ধরে তাকে আপনার পাশে বসাবেন? তার মাথায় একটিবার হাত রেখে বলবেন, “রাবেয়া, তোমার চোখ দুটো এত ঘোলা কেন?” আপনি সেদিন দেখবেন আব্বা, ঝরঝর করে কত মেঘ বৃষ্টি হয়ে নামে!
আষাঢ়ের আজ তৃতীয় দিন। আপনাকে যখন এই কথা লিখছি, তখন এখানেও ঝিরঝির করে বৃষ্টি এল। পৃথিবীর এই একটা জিনিসই বোধকরি আপনি ভালোবাসেন। যদিও জানিনা, এখনো ভালোবাসেন কি-না? আপনার মনে পড়ে আব্বা, আমি যখন ছোট, যেদিন এমন আকাশ কালো করে হঠাৎ বৃষ্টি নামত, আপনি ঝাকি জাল নিয়ে মাছ ধরতে নেমে যেতেন। আর মাছ রাখার খুলুই বয়ে বেরানোর জন্য সাথে নিতেন আমাকে। এই একটা সময়ই কেবল আমি আপনাকে ভয় পেতাম না। ঐ সময় মাছ খোঁটার ছলে আমি আপনাকে ছুঁয়ে দেখতাম। কী যে ভালো লাগত আমার! অথচ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে যখন আমার সর্দি লাগত, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসত – আপনি একবারও আমার কাছে আসতেন না। আমার কপালে হাত রাখতেন না। কেন আব্বা? আপনি এমন কেন? আমার ছোট্ট বুকটাতে তখন পাথর চেপে বসতো। দুঃখে আমার দম বন্ধ হয়ে আসতো। আপনার কোলে উঠে আপনার বুকে একটু মুখটা লুকাতে মনটা যে কেমন করত আব্বা- আপনি যদি দেখতেন! অবশ্য দেখলেই বা কী? ঘটনার কোনও পরিবর্তন হতো বলে আমার মনে হয় না। আপনার হৃদয় এত ঠুনকো অনুভূতিপ্রবণ নয় সে আমি বেশ ভালোকরেই জানি। সাত ভাই বোনের মধ্যে আমি ছোট বলেই কিনা জানিনা – আমি আপনার সবচেয়ে আদর পিয়াসী। কিন্তু আপনার এমন বয়সে এসে আমার জন্ম – সন্তানের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি হয়তো তখন আর আপনার অবশিষ্ট নেই। কিংবা আমার বড় ভাই বোনদের আদর স্নেহ দিতে দিতে আমার জন্য আর কিছু থাকলো না! সত্যিই কি তাই আব্বা? সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসাও কি কখনো কখনো কম পড়ে যায়? হয়তো যায়। আমার অন্য ভাই অথবা বোনেরা এ নিয়ে কী ভাবে- আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে। কিন্তু উপায় নেই, কারো সাথেই আমার সম্পর্ক ভালো না। কেন ভালো না আব্বা? কেন আমার সাথেই সবার এমন দূরত্ব?
পড়াশোনায় আমি বেশ ভালোই ছিলাম। একথা আমার শিক্ষকরাই সব সময় বলত। যদিও এই বিষয়টি আপনার জন্য কোনো আনন্দের বিষয় ছিল কিনা কখনোই বুঝতে পারিনি। খুব ভালোভাবে ইন্টারমিডিয়েট পাশের পরও আপনি আমার লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছেন। চাকরি নিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করেছেন। বিয়ের পাত্রীর ব্যাপারে সকলের মতামতকে বরাবরের মত অগ্রাহ্য করেছেন। বিয়ের পর বাসর রাতে প্রথম দেখা আমার বউকে নিয়ে কোনো অভিযোগ আমি করিনি। তার আকার এবং প্রকার নিয়ে নানাজন বিচিত্র সব কথা বললেও- আমি কখনোই কিছু বলিনি। অথচ বছর পেরোবার আগেই আপনার পছন্দের সেই বউমা আপনারই চোখের কাঁটা হয়ে উঠলো। সেটা নিয়েও আমার কোনো কথা নেই। তবু আমিই কেন শুধু পর হয়ে গেলাম, আব্বা?
গত দু’দিন ধরে আমি রাতে খেতে পারি না। এখানে আমরা যে রুমটাতে ভাড়া থাকি, তার পাশের রুমটাতেই কামাল নামের আমার এক ব্যাচমেট পরিবার নিয়ে থাকে। দুই দিন হলো ওর বাবা মা এখানে বেড়াতে এসেছে। রাতে আমরা প্রায় একই সময়ে দুটি পরিবার পাশাপাশি দুটি ঘরে খেতে বসি। খেতে বসে পাশের ঘরের সব কথা-বার্তাই আমার কানে আসে। আমি শুনি, কামালের বাবা কামালের সাথে নান বিষয়ে কথা বলে। ওর মেয়েটাকে আদর করে কাছে ডাকে। কথা প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় কামালকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করে। শুনে আমার গলা বুজে আসে। চোখ ঠেলে আসে কান্নায়। তখন গলা দিয়ে আমার ভাত নামে না আব্বা! আমাকে কখনো ‘বাবা’ বলে আদর করে ডেকেছেন কিনা আমার মনে পড়ে না। বাবা বলে কখনো ডাকতেও হবে না। শুধু একবার আমার নাম ধরে যদি আমাকে ডাকতেন- আব্বা, আমি বাকী জীবন আমার চোখের জলে আপনার পা ধুয়ে দিতাম।
আপনার পা দুটি নাকি অনেক ফুলে গেছে? শুনেছি হাঁটতে পারেন না। আহারে, না জানি কত কষ্ট হয় আপনার! অবশ্য এখন যে কয়টা দিন বাঁচবেন, শরীর আপনাকে শুধু কষ্টই দেবে। ক্যান্সার নামক যে জীবাণু আপনার ফুসফুসে বাসা বেঁধেছে , তার থেকে তো আসলে মুক্তি নেই। মৃত্যুই এই রোগের শেষ পরিণতি।
মৃত্যুর কথা মনে পড়ল আব্বা! মৃত্যু। খুব সহজে উচ্চারণযোগ্য খুব ছোট্ট একটি শব্দ অথচ কী কঠিন একটি ব্যাপার! জানেন আব্বা, আমি প্রায়ই মৃত্যুর কথা ভাবি। ভাবি, মানুষ কেন মারা যায়? মরে যাবার সময় ঠিক কী অনুভূতি কাজ করে মানুষের মনে? মৃত্যুর পর মানুষগুলোই বা সব কোথায় যায়? মৃত মানুষদের মাঝে কি দেখা-সাক্ষাৎ হয়? তারাও কি সেই জগতে সংসার পেতে বসে? আমার আপনার মৃত্যুর পর কি আমাদের দেখা হবে আব্বা? সেই জীবন কিংবা মরণেও কি আপনিই আমার আব্বা হবেন? ঐ জনমেও কি পিতা হিসেবে আপনি খুব রূঢ় হবেন?
আব্বা, যতবার মৃত্যুর কথা ভাবি বা কারও মৃত্যুর খবর শুনি ততবার আপনার অভিশাপের কথা মনে পড়ে যায়। আমি যখন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যাই, আপনি আমাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন- আমাকে বহনকারী উড়োজাহাজ মাটিতে নামার আগেই যেন আমার মৃত্যু হয়। কথাটি আমার যতবার মনে পড়ত, আমি কান্না লুকাতে পারতাম না। একজন সন্তান তার পিতার কাছে কত বড় অপরাধই আর করতে পারে , যেটা পিতা ক্ষমা করে দেবার বদলে তার মৃত্যু কামনা করে ?
ছয় বছর আগে আমিও এক কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছি। আমার সাধ্যের ভেতর আমি তাকে এত ভালোবাসি- বোঝাতে পারব না! আপনার কাছে সেটা হয়তো আদিখ্যেতা মনে হবে। কিন্তু সন্তান হিসেবে পিতার কাছ থেকে ভালোবাসা, মায়া, স্নেহ পাবার বদলে অবজ্ঞা, অনাদর আর অভিশাপ পাবার যন্ত্রণা যে কত ভয়াবহ তা তো আমি জানি। আর তাই আমার মেয়েটাকে আমি আমার জীবনের চাইতে আরো বেশি করে ভালোবাসি। সন্তানকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসাতেও যে কী সুখ – সেই সুখের সন্ধান দীর্ঘ জীবনেও আপনি পেলেন না! আহা, আপনার জন্য আফসোস হয়!
আব্বা, উঠোনে আমার হাতে লাগানো একটা পেয়ারা গাছ ছিল। আম্মার কাছে শুনেছি, আমার হাতে লাগানো - শুধু এই অপরাধে গেল বছর গাছ ভর্তি পেয়ারা সহ গাছটা আপনি কেটে ফেলেছেন। এটা কোন কথা হলো আব্বা? আমি না হয় আপনার কাছে অপরাধী, গাছটার কী পাপ বলেন তো? যাইহোক, আম্মা বলেছে এই বর্ষায় মাটির নিচে থাকা শেকড় থেকে কেটে ফেলা গাছটার কয়েকটা নতুন কুঁড়ি গজিয়েছে। পৃথিবীর সবকিছুই কি উপরে উপরে শেষ করে দিলে সত্যিই শেষ হয়ে যায়? পেয়ারা গাছের মত কিছু গাছ যেমন মাটির উপরে গোড়াসহ কেটে ফেললেও মাটির নিচে শিকড় তাজা থেকে যায়, একটু বৃষ্টির ফোঁটাতেই নতুন কুঁড়িগুলো মাটির উপরে মাথা তুলে দাঁড়ায়, আমার আর আপনার সম্পর্কও কি তেমন নয় আব্বা? মুখে বলে আপনি যতবার খুশি আমাকে আপনার সন্তান হিসেবে অস্বীকার করতে পারেন। কিন্তু বুকের ভেতর যে হৃদপিন্ড প্রতিমূহুর্তে শরীরের শিরা উপশিরায় রক্তের স্রোত বইয়ে দেয়- সেই রক্তের দাবীকে আপনি কী করে অগ্রাহ্য করবেন? হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যে অদেখা বন্ধন পিতা আর পুত্রের সম্পর্ককে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে, পৃথিবীর কোনও পাপ, কোনও অভিযোগ, কোনও অভিশাপ কি সেই বন্ধন কিছুমাত্র আলগা করতে পারে?
আব্বা, নতুন গজানো পেয়ারা গাছটার মত আমার বুকেও স্বপ্নের দুটি সবুজ পাতার কুঁড়ি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আপনি দয়া করে এই স্বপ্নটাকে শেষ করে দেবেন না। কয়দিনেরই আর জীবন? কয়টা দিনই আর বাঁচব বলেন? আপনার শরীরে ক্যান্সার, আপনার মৃত্যু নিশ্চিত। আমার শরীরে ক্যান্সার নেই বলে কি আমার মৃত্যু নিশ্চিত নয়? আব্বা, কখনো ভেবেছেন, আপনার অভিশাপ যদি সত্যি হয়? সেজভাই যেমন তার বউ বাচ্চাসহ একসাথে আগুনে পুড়ে মরে গেছে দশ বছর আগে; তেমন করে যদি আমিও হঠাৎ মরে যাই? হঠাৎ কোনো এক সকালে যদি আমার লাশের বরফ ঠান্ডা কফিন আপনার বাড়ির উঠোনে পৌছায়, আপনি তখন কার উপর রাগ করে থাকবেন আব্বা? আমার কালো হয়ে আসা অভিমানী মুখের দিকে তাকিয়ে আপনার পাথরের পাঁজর হঠাৎ কি ভেঙে ভেঙে আসবে না? আমার শীতল কপালে হাত রেখে আপনি কি তখনও নিজেকে আপনার চিরাচরিত জেদ-এ অবিচল রাখতে পারবেন? আপনার দু-চোখ জ্বালা করে ঝাপসা হয়ে আসবে না? মুখের ঘাম মোছার ছলে কাঁধের গামছা তুলে সবার অলক্ষে আপনার দুটি চোখ আপনি মুছবেন না- সে কথা বুকে হাত রেখে আপনি বলতে পারবেন, আব্বা?
আমি যখন মিশনে ছিলাম, আমার এক ব্যাচমেট হুট করে মরে গেল। বিকেলে সবাই এক্সারসাইজ করে রুমে ফিরছি, হঠাৎ বুকের ব্যাথায় ছেলেটি মাঠেই ঢলে পড়লো। আর উঠলো না। এত সহজ এবং এত দ্রুত কোনো মৃত্যু আমি আগে কখনো দেখিনি। সপ্তাহ তিনেক আগে আমার আরও এক বন্ধু মারা গেছে। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো রবিন নামের এতিম সেই ছেলেটা পড়াশোনা শেষ করার পর, গেল বছর নিজের যোগ্যতায় সরকারি একটা ব্যাংকে চাকুরি পেয়েছিল। বছর না ঘুরতেই সেদিন গোসল করতে পুকুরে নেমে টুক করে ডুবে মরে গেল!
কাছের মানুষদের এইসব মৃত্যু আমাকে ভীষণ দূর্বল করে দিয়েছে। রবিনের কেউ ছিল না। কিন্তু আমার আপনারা সবাই থাকতেও কেন আমি এতিম হয়ে মরে যাব ? আব্বা, আমি ছাড়াও আপনার আরও তিনজন ছেলে বেঁচে আছে। তাই আমাকে ছাড়া আপনি কখনো হয়তো ছেলের অভাব বোধ করবেন না। কিন্তু আমার তো আপনি ছাড়া আর কোন আব্বা নাই। আমি কার কাছে যাব? আপনি ছাড়া ফিরে আসার মত আর কোনও আশ্রয়ও আমার জানা নেই।
আব্বা আমার অনেক কষ্ট। দিন যাপনে অনেক বেশি গ্লানি আমার। আমার মনের মধ্যে হাজারো অভিমান মাথা খুঁটে মরে। আমি সব আপনাকে বলতে চাই। আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই আব্বা! তাই আমার জীবনের সবগুলো ভুল, আপনার প্রতি করা সকল অপরাধের জন্য আমি আপনার পা দুটি বুকে জড়িয়ে ধরে আকুল হয়ে কাঁদতে চাই। দয়া করে আমাকে একটা সুযোগ দিন।
ইতি-
আপনার অযোগ্য পুত্র,
সবদিক থেকে আপনার ছোট সন্তান,
“মামুন”
শেষ কথাঃ মামুনের চিঠিটা তার বাবা পড়ে যেতে পারেননি। চিঠিটা যেদিন বাড়িতে পৌছে তার একদিন আগে মামুনের বাবা মারা যান। তীব্র মন-মালিন্যের কারণে মামুনের বড় ভাই-বোনেরা বাবার মৃত্যুর খবরটাও কেউ তাকে জানায়নি। বগুড়া ক্যান্টনমেন্টের সামনের রাস্তায় হঠাৎ দেখা হওয়া গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে মামুন তার পিতার মৃত্যুর খবরটি জানতে পারে মৃত্যুর এক মাস পর।
অলংকরণঃ তাইফ আদনান