জলধি / কবিতা / দেবাশিস সাহার পাঁচটি কবিতা
Share:
দেবাশিস সাহার পাঁচটি কবিতা

শাড়ি 

গাছে গাছে ফাগুন রঙের শাড়ি।সেজে উঠেছে যেন মা।

মা বললেই মনে পড়ে আঁচল। আঁচলের নীচে খেলা করে শৈশব।

শৈশবের বন্ধুরা এলোমেলো।

শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হলেই উড়ে যায়।

উড়ে যায় অন্য কারও আকাশে।

যেখানে কাটা ঘুড়ি জমিয়ে রাখে মনখারাপ।

মনখারাপের কোনও তিথি হয়না মানবী।

বেলা-অবেলায় আসে আর তুমি সরে যেতে যেতে মা হয়ে যাও।

মনখারাপ একা একা বড়ো হতে হতে জেঠু হয়ে

এক দোলরাতে উপহার দেয় আলো রঙের শাড়ি।


সায়া

মায়ের সায়া পড়ে লুটোপুটি খায় হাসি।

বড়ো হচ্ছে তবু পরবে।মা হবে। বড়ো হবে।

বড়ো হতে হতে পৃথিবীকে বানিয়ে নেবে সংসার।

সারাদিন ধরে সামলাবে পেটিকোট রঙের সরকার।

লোন দেবে।সুদ নেবেনা। চেয়ে নেবে ভালোবাসা।

ভালোবাসা দিয়ে দুখি মানুষদের ক্ষত সারিয়ে তুলবে।

সবাই একডাকে সারাইওয়ালা নামে চিনবে।ডাকবে।

এক রত্তি মেয়ে এত ডাক সামলাবে কি করে!

দশ আঙ্গুলে দশটি পেটিকোট সংসার।

তারপর গাছেদের শাড়ির কুচি ঠিক করতে গিয়ে মনে পড়ে

কারোর ম্যাচিং সায়া আনা হয়নি।

সায়াহীন গাছেদের কোনও ছায়া বা মায়া নেই।


চুড়িদার

ফ্রক ধর্মান্তরিত হয়ে চুড়িদার হতেই বন্ধুদের চোখে সাবালক।

সোমত্ত মেয়ে লাউডগা। সকালে মেয়ে তো বিকেলে বঁধুয়া।

লায়েক হয়ে গেলে বাড়ির দেয়ালে ভাঁজ পড়ে।

চিন্তাস্রোত বয়ে যায় ঘুমের দেশে।

পাড়ায় পাড়ায় কুঁড়ি তে রঙ লাগে।ফুলের দেখা নেই।

ফুলেল মালার রাজকুমার খাট সাজাতে ব্যস্ত।

কেরোসিন ডাকে। আগুন ডাকে।

চুড়িদার পিছনের দরোজা খুলে জানিয়ে দেয় গুডবাই চিলেকোঠা।

পরের বার এসে ভালও করে খেলে জিতবোই জিতবো।


ওড়না

আপদ পায়ে এলেই বিপদ। ভাই-বোন মিলে সাত নদী এক মাঠ।

সেই মাঠে অনেক রাখাল।মেঘ চরায়।

মেঘ ঘুমিয়ে গেলে নদী গর্ভবতী।

রাখাল নদীকে হাসপাতালে যায়।

হাসপাতালে নানা রঙের নদী ওড়না জড়িয়ে অপেক্ষা করে।

অপেক্ষার রাত বুড়ি হয়ে যায় তবু চাঁদ আসেনা।

জন্ম নেয়না কোনও কানাই।

অমারাতে রাখাল রাস্তা ছুটিয়ে আসে কর্পোরেশন ঘরে।

সেখানে পাহারারত তালা।চেয়ারম্যান ভোট কিনতে সাগরে গেছে।

মেঘ রাখালকে নিয়ে ঘরে যায়।

ওড়না থেকে খুলে খুলে পড়ে সমস্ত রঙ।রাখাল আজ রামধনু।


ফ্রক

পাহাড়ের খোঁজে মেঘ সরায়।

সরাতে সরাতে শেষ হয়ে যায় খোসা।

উঠে আসে এক রঙচটা ফ্রক।

যৌনতার পাঠ শিখতে ফ্রকের কাছে যেতেই

হাতে লন্ঠন ধরিয়ে দে ছুট।

আলো ছুটি পেলেই অন্ধকারের রাজত্ব।

এক অন্ধ সময়ে বড়ো হতে থাকে কৈশোর।

বালিকা বঁধুর অভিনয় করতে ডাক আসে।

অভিনয় করতে করতে বড় হতে থাকে সংসার।

মধু জমার আগেই চাক ভাঙা হয়।

লুট হয়ে যায় স্বপ্নের নানা রঙ।

রঙ নিয়ে খেলা করে সময়।

অনেক আগেই ফ্রকের আবডালে

দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে জমিয়ে রাখা যাবতীয় পরিকল্পনা



অলংকরণঃ তাইফ আদনান